

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বাহরাইনের পেশ করা একটি খসড়া প্রস্তাবের তীব্র সমালোচনা করেছে চীন। জাতিসংঘে নিযুক্ত চীনের স্থায়ী প্রতিনিধি ফু কং মন্তব্য করেছেন, এই প্রস্তাবের মূল বক্তব্য ও উপস্থাপনের সময়—কোনোটিই যথোপযুক্ত নয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি অনুমোদিত হলে কোনো শুভ ফল আসবে না। খসড়া এই প্রস্তাবে ইরানকে হরমুজ প্রণালিতে আক্রমণ চালানো ও মাইন বসানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক কূটনীতিকদের অনুমান, প্রস্তাবটি যদি শেষ পর্যন্ত ভোটে দেওয়া হয়, তবে চীন ও রাশিয়া এতে ভেটো প্রয়োগ করতে পারে। বিগত মাসেও মার্কিন সমর্থিত অনুরূপ একটি প্রস্তাবে দেশ দুটি ভেটো দিয়েছিল।
সে সময় তাদের দাবি ছিল, ওই প্রস্তাবটিতে একপাক্ষিকভাবে কেবল ইরানকে নিশানা করা হয়েছে।জাতিসংঘের খবর পরিবেশনকারী গণমাধ্যম ‘পাসব্লু’তে প্রকাশিত এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে ফু কং বলেন, ‘আমরা মনে করি না এই প্রস্তাবের বক্তব্য সঠিক, তাছাড়া এটি মোটেও সময়োপযোগী নয়।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘এই মুহূর্তে জরুরি বিষয় হলো উভয় পক্ষকে সুদৃঢ় ও ফলপ্রসূ সংলাপে বসতে অনুপ্রাণিত করা, যাতে করে সংকটের সমাধান সম্ভব হয়। এই ক্রান্তিলগ্নে যেকোনো প্রস্তাব পাস করা কোনো কাজে আসবে না।’ ফু কং স্পষ্ট করেন যে, ১৫টি সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান সভাপতির দায়িত্বে থাকা চীনের নিজস্ব সিদ্ধান্ত হলে এই প্রস্তাবটি ভোটের টেবিলেই উঠত না। তবে চীনের জাতিসংঘ মিশন পরিষ্কার করে জানিয়েছে, প্রস্তাব পেশকারী দেশগুলো যদি আনুষ্ঠানিক দাবি জানায়, তবে সভাপতির আসন থেকে ভোট গ্রহণ করা তাদের প্রথাগত দায়িত্ব; যদিও এখনো পর্যন্ত এই ধরনের কোনো অনুরোধ পাওয়া যায়নি।উভয় দেশের শীর্ষ নেতাদের দুই দিনব্যাপী বৈঠক সমাপ্ত হওয়ার পরপরই চীনের পক্ষ থেকে এমন প্রতিক্রিয়া এলো।
হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই ব্যাপারে একমত হয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা আবশ্যক এবং বেইজিং এই নৌপথের সামরিকায়নের বিপক্ষে। যদিও শি জিনপিং নিজে জনসমক্ষে এই বিষয়ে সরাসরি কোনো বক্তব্য দেননি, তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরান সংশ্লিষ্ট যুদ্ধাবস্থা নিয়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘এই লড়াইয়ের সূচনা হওয়াই উচিত ছিল না এবং এটি এভাবে দীর্ঘায়িত হওয়ারও কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।’