

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে সংগঠিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ড ও হামলার ঘটনায় প্রধান বা ১ নম্বর আসামি হবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং ২ নম্বর আসামি হবেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল—এমনটাই দাবি করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এ কে এম শরীফ উদ্দিন।
গত (২৪ মে) সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সংবাদমাধ্যম ‘কালের কণ্ঠ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।অ্যাডভোকেট শরীফ উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গত ৫ আগস্টের পর দেশে কোনো প্রকৃত বিচারই হয়নি। বরং রাষ্ট্রের মদদেই দেশজুড়ে মব-কিলিং বা গণপিটুনির মতো ঘটনা ঘটেছে। রাষ্ট্রের মদদে আমাদের এখানকার বিচারপতিদের পর্যন্ত হুমকি দিয়ে গেছে সন্ত্রাসীরা। অথচ বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা হলো আদালত, সেই আদালতেই সন্ত্রাসীরা এসে মিছিল করেছে। এই দৃশ্য আমরা সবাই দেখেছি। তবে মনে রাখবেন, এই দৃশ্যেরও বিচার হবে, শুধু অপেক্ষায় থাকেন।”তিনি বর্তমান প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করে আরও বলেন, “বিচারপতিদের সম্পর্কে বাজে মন্তব্য করে তাঁদের এখান থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে। আর এই পুরো প্রক্রিয়ার ইমাম ছিলেন ইউনূস আর আসিফ নজরুল। এই অপরাধীদের বিচার অবশ্যই হবে, সেই দিন বেশি দূরে না। তাদের অপরাধ হলো, রাষ্ট্র অপরাধীদের প্রোটেকশন দিয়েছে।”নির্বাচনী ব্যবস্থা ও মানুষের অধিকার প্রসঙ্গে এই আইনজীবী বলেন, “৫ আগস্টের পরে সুপ্রিম কোর্টে ভোট নাই, ঢাকা বারে ভোট নাই—তাহলে ৫ আগস্টের পরে কী হয়েছে? ৫ আগস্টের আগে সবকিছু ভালোই ছিল এবং দেশের মানুষের ন্যায্য অধিকার ছিল।”দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, “মানুষ আগে টাকা নিয়ে বাজারে যেতে পারত। এখন মানুষ টাকা নিয়ে বাজারে যেতে পারে না। গতকাল শহীদ মিনারের সামনে এক লোককে ধরে টাকা নিয়ে গেছে আড়াই শ থেকে তিন শ টাকা—বলে যা আছে তাই দিয়ে দাও! পুরো দেশজুড়ে এখন একটা রামরাজত্ব চলছে।”সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী কিছু হত্যাকাণ্ডের ঘটনা স্মরণ করিয়ে দিয়ে উল্লেখ করেন, “ইউনূস আমলে একটা ছেলেকে ইট দিয়ে থেঁতলে মেরে ফেলছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাত খাওয়া অবস্থায় একটা ছেলেকে মেরে ফেলছে, এগুলো কারা করেছে? তাই এই সময়ে দেশে হওয়া প্রতিটি হত্যা মামলার প্রধান আসামি হবেন ইউনূস এবং আসিফ নজরুল দুই নম্বর আসামি হবেন। এই মামলাগুলো অবশ্যই হবে, এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।”