

আল আমিন হোসেন,সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সমেশপুর গরু-ছাগলের হাটে আসন্ন কোরবানি ঈদকে কেন্দ্র করে পশু কেনাবেচা বেশ জমে উঠেছে। ভোর থেকেই সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে খামারি, পাইকারি ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতাদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে হাটজুড়ে এক প্রাণচাঞ্চল্যপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ছোট-বড় ও মাঝারি নানা জাতের দেশীয় এবং উন্নত জাতের গরু ও ছাগল নিয়ে কাকডাকা ভোরেই হাটে হাজির হন দূর-দূরান্তের বিক্রেতারা। হাট ঘুরে দেখা যায়, দেশীয় ও বাহারি জাতের বিভিন্ন গরু-ছাগল সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। কেউ পারিবারিক কোরবানির জন্য আবার কেউ ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে পশু কিনতে হাটে এসেছেন। সচেতন ক্রেতারা পশুর স্বাস্থ্য, দাঁত, ওজন ও গঠন নিখুঁতভাবে দেখে দরদাম করছেন এবং হাটজুড়ে দিনভর চলছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ব্যস্ততা ও তীব্র দর কষাকষি।
তবে হাটে পর্যাপ্ত পরিমাণ পশু উঠলেও আশানুরূপ ক্রেতা না থাকায় গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন অনেক খামারি ও সাধারণ বিক্রেতা। তাঁরা জানান, সকাল থেকে হাটে অবস্থান করলেও অনেকেই এখনো কাঙ্ক্ষিত দামে একটি গরুও বিক্রি করতে পারেননি। পশুখাদ্য, ওষুধ ও দীর্ঘদিনের লালন-পালনের খরচ ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ায় এবার একটু বেশি দামে গরু বিক্রির আশা করেছিলেন তারা, কিন্তু বাজারে ক্রেতা কম থাকায় কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়া যাচ্ছে না। হাটে আসা এক বিক্রেতা আক্ষেপ করে বলেন, অনেক কষ্ট করে কয়েক মাস ধরে ধার-দেনা করে গরু পালন করেছি। কিন্তু হাটে ক্রেতা কম থাকায় এখনো ভালো দাম পাচ্ছি না। লালন-পালনের খরচের তুলনায় এবার আসল টাকা উঠবে কি না এবং লাভ হবে কি না তা নিয়েও চরম দুশ্চিন্তায় আছি।অন্যদিকে হাটে আসা ক্রেতারা বলছেন ভিন্ন কথা, তাঁদের দাবি হাটে গরুর দাম বিক্রেতারা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি চাচ্ছেন। তাই তারা তড়িঘড়ি না করে বিভিন্ন হাট ঘুরে বাজার যাচাই করছেন এবং সাধ্যের মধ্যে দর কষাকষি করছেন। একাধিক ক্রেতা জানান, পশুর দাম সহনীয় পর্যায়ে এলে তবেই গরু কিনবো। এখনো বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং বিভিন্ন হাটে ঘুরে দাম মিলিয়ে নিচ্ছি। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের এই দর কষাকষিতে হাটজুড়ে ব্যস্ত সময় পার হলেও এখনো অনেকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেচাকেনা আরও বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে কোরবানি পশুর হাটের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তৎপর ও টহল দিতে দেখা গেছে। হাট সংলগ্ন রাস্তায় যানজট নিয়ন্ত্রণ, জালিয়াতি চক্র রোধ এবং চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধেও প্রশাসনের কঠোর নজরদারি রয়েছে। হাট পরিচালনা কমিটির অন্যতম সদস্য শহিদুল ইসলাম আকন্দ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, আগের তুলনায় এবার হাটে গরু অনেক কম উঠেছে এবং বেচাকেনাও কিছুটা কম হচ্ছে। আগামী সোমবার ঈদের আগে শেষ হাট বসবে। আমরা আশা করছি ওই শেষ হাটে বেচাকেনা অনেক ভালো হবে। তিনি আরও বলেন, দূর থেকে আসা ক্রেতা ও বিক্রেতাদের জন্য এখানে থাকা-খাওয়া এবং কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কোনো ধরনের ভোগান্তি ও চাঁদাবাজি ছাড়াই সবাই যেন নির্বিঘ্নে গরু-ছাগল কেনাবেচা করতে পারেন, সে বিষয়ে আমরা সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখছি। স্থানীয়দের মতে, সমেশপুরের এই ঐতিহ্যবাহী গরু-ছাগলের হাট দীর্ঘদিন ধরে এলাকার অন্যতম বৃহৎ পশুর হাট হিসেবে পরিচিত যা স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।