

বাংলাদেশে শীতের আমেজ শুরু হয়েছে। গ্রামীণ জনপদে শীতের প্রকোপ বেশি হলেও রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতেও অনুভূত হচ্ছে ঠান্ডা। আবহাওয়া পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিচ্ছে। শীতকালীন রোগব্যাধি ও তা থেকে প্রতিকারের উপায় নিয়ে বিশেষ পরামর্শ দিয়েছেন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হাসিনাতুন জান্নাত।
শীতকালীন সাধারণ রোগসমূহ: চিকিৎসকদের মতে, শীতকালে বাতাসে ধুলাবালি বাড়ায় শ্বাসকষ্ট, কোল্ড অ্যালার্জি, টনসিল ব্যথা ও কাশির প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না নিলে শিশুদের ক্ষেত্রে এসব সমস্যা নিউমোনিয়ায় রূপ নিতে পারে। এছাড়া শীতকালেও এখন ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ও ফাইলেরিয়ার মতো মশাবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে। ঠান্ডার কারণে অনেকের মধ্যে পাতলা পায়খানা বা ডাইরিয়ার সমস্যাও পরিলক্ষিত হয়।
ত্বকের যত্ন ও শুষ্কতা রোধ: শীতে বাতাসের আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় ত্বক শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে পড়ে। এর ফলে চামড়া ফেটে যাওয়া, চুলকানি বা ব্যথার সৃষ্টি হতে পারে। এই সমস্যা সমাধানে নিয়মিত লোশন, অলিভ অয়েল, নারিকেল তেল বা গ্লিসারিন ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে যাদের ধুলাবালিতে অ্যালার্জি আছে, তাদের বাইরে বের হওয়ার সময় অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করা উচিত।
দীর্ঘমেয়াদী রোগীদের সতর্কতা: যাঁরা ডায়াবেটিস বা অন্যান্য ক্রনিক রোগে ভুগছেন, শীতকাল তাঁদের জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ সময় অনেকের অনিদ্রা বা শারীরিক জটিলতা বেড়ে যায়। তাই দীর্ঘমেয়াদী রোগীদের নিয়মিত চিকিৎসকের সংস্পর্শে থাকা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সেবন নিশ্চিত করা জরুরি।
সুস্থ থাকতে যা করণীয় ও বর্জনীয়:
শীতের এই সময়ে নিয়মিত হালকা ব্যায়াম এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।