

মারুফ খন্দকার, দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের বাঘড়া গ্রামটি যেন এক অবহেলিত জনপদ। আধুনিক সময়ের এই যুগে দাঁড়িয়েও একটি কার্যকর রাস্তার অভাবে এই গ্রামের হাজারো মানুষ প্রতিদিন চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, স্বাধীনতার এত বছর পরেও বাঘড়া গ্রামে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। বর্ষাকালে পুরো এলাকাটি কর্দমাক্ত হয়ে বিচ্ছিন্ন জনপদে পরিণত হয়, আর শুষ্ক মৌসুমেও কাঁচা রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী থাকে না। কোনো প্রকার যানবাহন চলাচল করতে না পারায় স্থবির হয়ে পড়েছে এই এলাকার স্বাভাবিক জনজীবন।
গ্রামের বাসিন্দা মাওলানা কালাম মিয়া আক্ষেপ করে জানান, তারা নিজেদের উদ্যোগে একটি কাঠের সেতু বানিয়ে কোনোমতে যাতায়াত করছেন। কিন্তু এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। আরেক বাসিন্দা রশিক মিয়া এক হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, রাস্তার অভাবে তার বাবাকে সময়মতো হাসপাতালে নিতে না পারায় পথেই তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গর্ভবতী নারী ও মুমূর্ষু রোগীদের কাঁধে তুলে কাদার রাস্তা পাড়ি দিতে হয়। যাতায়াত ব্যবস্থা নাজুক হওয়ায় এই এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে বারবার ধর্ণা দিলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বাঘড়া গ্রামের মানুষের দাবি—একটি টেকসই পাকা রাস্তা এবং নিরাপদ ব্রিজ বা কালভার্ট নির্মাণ করা হলে তাদের দীর্ঘদিনের কষ্টের অবসান ঘটবে।
এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরুপ রতন সিংহ জানান, বাঘড়া এলাকার এই যোগাযোগ সমস্যাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে একটি টেকসই সমাধানের পরিকল্পনা বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।