

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
বিয়ের পিঁড়িতে কনে সেজে বসেছেন তরুণী। পাশে দাঁড়িয়ে পরম স্নেহে ‘কন্যাদান’ করছেন আপন বড় ভাই। সনাতন ধর্মের রীতিনীতি মেনে বেশ ধুমধাম করেই সম্পন্ন হলো বিয়ে। কিন্তু বিয়ের মাত্র কয়েক দিন পরই প্রকাশ পেল এক চরম ও অবিশ্বাস্য সত্য। জানা গেল, কনের ভাই সেজে যিনি বিয়ের পিঁড়িতে কন্যাদান করেছিলেন, তিনি আসলে ওই তরুণীর ভাই নন, বরং তাঁর আগের স্বামী!ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চাঞ্চল্যকর ও অদ্ভুত এই জালিয়াতির ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়র এলাকায়।
এই জঘন্য ঘটনায় ভুক্তভোগী বরের অভিযোগের ভিত্তিতে কনে ও তাঁর আসল স্বামীসহ মোট সাতজনের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মামলা দায়ের করেছে স্থানীয় পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোয়ালিয়রের নাকা চন্দ্রবদন এলাকার বাসিন্দা রতন শর্মা নামের এক যুবক এই অভিনব প্রতারণার শিকার হয়েছেন। রতন মধ্যপ্রদেশেরই জাবালপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ‘টিম লিডার’ হিসেবে কর্মরত। রতনের পরিবারে মোট পাঁচ ভাই। তারা সবাই অবিবাহিত ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের পরিবারে যোগ্য পাত্রীর সন্ধান করা হচ্ছিল, কিন্তু কোনো যুতসই সম্বন্ধ আসছিল না। পরিবারের এই দুর্বলতার পূর্ণ সুযোগ নেয় একটি সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্র। তারা রতনের পরিবারের কাছে এক তরুণীর বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসে। চক্রটি রতনের পরিবারকে বিশ্বাস করায় যে, মেয়েটি অত্যন্ত সাধারণ ঘরের এবং তার পরিবারে দেখভাল করার মতো কেবল এক বড় ভাই ছাড়া আর কেউ বেঁচে নেই।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, অত্যন্ত ধুমধাম করে রতন ও ওই তরুণীর বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের আসরে কনের ভাই হিসেবে উপস্থিত হয়ে সব আচার-অনুষ্ঠান তদারকি করেন এক ব্যক্তি। এমনকি হিন্দু শাস্ত্র মতে বোনের কন্যাদানের মতো পবিত্র আনুষ্ঠানিকতাও সম্পন্ন করেন তিনি। বিয়ে শেষে কনেকে নিয়ে মহা ধুমধামে ঘরে ফেরেন রতন। কিন্তু বিয়ের মধুচন্দ্রিমা কাটার আগেই কনের রহস্যজনক আচরণে সন্দেহ হয় রতনের। পরবর্তীতে মেয়েটির বাড়ি ও তার তথাকথিত ভাইয়ের বিষয়ে গোপনে খোঁজখবর নিতে গিয়ে রতনের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যায়।সমস্ত তথ্য-প্রমাণ ঘেঁটে রতন জানতে পারেন, তাঁর স্ত্রী আগে থেকেই বিবাহিত। শুধু তাই নয়, বিয়ের আসরে যিনি কনের ‘ভাই’ সেজে দাঁড়িয়ে কন্যাদান করেছিলেন, তিনি আসলে কনের আপন স্বামী! মূলত রতনের পরিবারের সরলতা ও একাকীত্বের সুযোগ নিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা ও গহনা হাতিয়ে নিতেই এই স্বামী-স্ত্রী মিলে ভয়ঙ্কর জালিয়াতির ছক কষেছিলেন। এই নির্মম সত্য জানার পরপরই রতন শর্মা গোয়ালিয়র থানায় গিয়ে কনে এবং তার আসল স্বামীসহ এই চক্রের সঙ্গে জড়িত সাতজনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। গোয়ালিয়র পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী যুবকের অভিযোগের ভিত্তিতে একটি গুরুতর জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। এই লম্পট চক্রটি এর আগেও অন্য কারও সঙ্গে এমন জালিয়াতি করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাদের গ্রেফতারে জোর অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।