

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
ক্যান্সার বললেই সাধারণত বয়স্কদের কথা মাথায় এলেও সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা। বাংলাদেশে তরুণ ও যুবকদের মধ্যে ব্লাড ক্যান্সারের হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবেশ দূষণ, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস এবং ক্ষতিকর রাসায়নিকের সংস্পর্শ এই মরণব্যাধি ছড়ানোর পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে। তবে প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত করা গেলে এই রোগ নিরাময়ের সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।
ব্লাড ক্যান্সারের ৫টি প্রধান লক্ষণ
১. দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি ও দুর্বলতা: পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরেও যদি শরীর সবসময় প্রচণ্ড ক্লান্ত লাগে, তবে তা রক্তে লোহিত রক্তকণিকা কমে যাওয়ার সংকেত হতে পারে। এটি ব্লাড ক্যান্সারের অন্যতম প্রাথমিক লক্ষণ।
২. ঘন ঘন জ্বর ও সংক্রমণ: শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা শ্বেত রক্তকণিকা সঠিকভাবে কাজ করতে না পারলে আক্রান্ত ব্যক্তি সহজেই সর্দি-কাশি বা সংক্রমণে ভোগেন এবং জ্বর সহজে সারতে চায় না।
৩. অস্বাভাবিক রক্তপাত: দাঁত ব্রাশ করার সময় মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া, নাক দিয়ে রক্ত আসা কিংবা শরীরের কোথাও সামান্য আঘাতেই কালশিটে দাগ পড়ে যাওয়া মোটেও স্বাভাবিক নয়। রক্তে প্লাটিলেট কমে গেলে এমনটি হয়।
৪. হাড় ও জয়েন্টে ব্যথা: ক্যান্সার কোষ যখন হাড়ের মজ্জার (Bone Marrow) ভেতর ভিড় জমায়, তখন হাড় ও জয়েন্টে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভূত হতে পারে। অনেকে একে সাধারণ বাতের ব্যথা ভেবে ভুল করেন।
৫. লসিকা গ্রন্থি ফুলে যাওয়া: গলা, বগল বা কুঁচকির আশেপাশে কোনো ব্যথাহীন শক্ত দলা বা লসিকা গ্রন্থি ফুলে উঠলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এটি লিম্ফোমার লক্ষণ হতে পারে।
কেন বাড়ছে এই ঝুঁকি? জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত ও ফাস্টফুড গ্রহণ, বায়ুদূষণ, শিল্পকারখানার বিষাক্ত রাসায়নিক এবং খাদ্যে ব্যবহৃত ভেজাল প্রিজারভেটিভ তরুণদের মধ্যে এই ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। এছাড়া পারিবারিক ইতিহাসে ক্যান্সারের উপস্থিতি থাকলেও সতর্কতা প্রয়োজন।
প্রতিকার ও সচেতনতা আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট এবং কেমোথেরাপির মাধ্যমে এখন অনেক রোগীই সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন। তবে এর মূল শর্ত হলো দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ। উল্লেখিত লক্ষণগুলোর কোনটি টানা দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে অবহেলা না করে একজন রক্তরোগ বিশেষজ্ঞের (হেমাটোলজিস্ট) পরামর্শ নিন। একটি সাধারণ রক্ত পরীক্ষাই (CBC) অনেক সময় বড় বিপদ থেকে বাঁচাতে পারে।