

শেখ জুনায়েদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বিরুদ্ধে পত্রিকায় বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের জেরে ‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’ পত্রিকার সম্পাদক, বার্তা সম্পাদকসহ চার নির্ভীক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মানহানি মামলার প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বুধবার (১৭ জুন ২০২৬) বিকেল ৪টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও সচেতন নাগরিক সমাজের যৌথ উদ্যোগে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে জেলায় কর্মরত বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমের সাংবাদিক, প্রগতিশীল সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। (উল্লেখ্য, মূল তথ্যে বার উল্লেখ করা হয়েছিল মঙ্গলবার, তবে তারিখ ১৭ জুন হওয়ায় এটি আজ বুধবার অনুষ্ঠিত হয়েছে)।
মানববন্ধনে উপস্থিত ক্ষুব্ধ বক্তারা বলেন, “প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, লাগামহীন দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের জেরে দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন-এর সম্পাদক ও প্রকাশক মেহেদী হাসান, বার্তা সম্পাদক আশরাফ আলী ফারুকী, তুখোর স্টাফ রিপোর্টার সালেহ কায়সার এবং বগুড়া জেলা প্রতিনিধি শামস মাহমুদ তুষারের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, এই মামলা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করার একটি নোংরা ও হয়রানিমূলক অপচেষ্টা মাত্র।”
বক্তারা আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গণমাধ্যমের প্রধান ও নৈতিক দায়িত্ব হলো জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে থাকা অনিয়ম ও রাঘববোয়ালদের দুর্নীতির সত্য তথ্য জনগণের সামনে উন্মোচন করা। কিন্তু সত্য সংবাদ প্রকাশের অপরাধে যদি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিদের ইন্ধনে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এভাবে ঢালাও মামলা দায়ের করা হয়, তবে তা স্বাধীন সাংবাদিকতা, মুক্ত গণমাধ্যম এবং স্বাধীন মতপ্রকাশের মৌলিক অধিকারের ওপর চরম হুমকিস্বরূপ হয়ে দাঁড়ায়।”
উক্ত প্রতিবাদী মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে আরও উপস্থিত ছিলেন—অগ্রযাত্রা প্রতিদিন-এর সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার ইয়াসিন মাহমুদ, মাঠপর্যায়ের সাংবাদিক সোহাগ মোল্লা, প্রবীণ সাংবাদিক হারুন আল রশীদ, তরুণ গণমাধ্যমকর্মী সজিব হাসান, কিবরিয়া, নুরুল হুদা, ইসমাইল ও আরিফসহ স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজের বিশিষ্ট প্রতিনিধিবৃন্দ।
মানববন্ধনের শেষভাগে বক্তারা সরকারের উচ্চপর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অবিলম্বে চার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা এই কাল্পনিক ও হয়রানিমূলক মামলা দ্রুত প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান। অন্যথায়, সারা দেশের সাংবাদিক সমাজকে সাথে নিয়ে রাজপথে আরও তীব্র ও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার আল্টিমেটাম ও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তারা।