

শেখ জুনায়েদ,জেলা প্রতিনিধি-ব্রাহ্মণবাড়িয়া:
পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান অনুষঙ্গ কোরবানির পশুর বর্জ্য, রক্ত ও চামড়া ধোয়ার পানি থেকে ছিটকে পড়া তীব্র দুর্গন্ধে সকাল থেকেই যেন এক চরম অস্বস্তিকর ও দূষিত নগরীতে পরিণত হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া। উৎসবের আমেজ ছাপিয়ে পুরো শহরের বিভিন্ন প্রধান সড়ক ও মোড়ে মোড়ে জমে উঠেছে পশুর হাটের ময়লা আর বর্জ্যের স্তূপ। ঈদের এই আনন্দঘন দিনেও তীব্র গন্ধে ঘর থেকে বের হতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ শহরবাসী। তবে এই চরম অব্যবস্থাপনা ও শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির মাঝেও স্বস্তির আলো ছড়িয়েছে স্থানীয় তরুণদের ব্যতিক্রমী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া’।
২৯ মে (শুক্রবার) সকাল থেকেই শহরের তীব্র দুর্গন্ধ রোধ এবং পরিবেশের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে বিশেষ মাঠে নেমেছে সংগঠনটি। সংগঠনের একঝাঁক উদ্যমী নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল (সদর) হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে শুরু করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ কাউতলী মোড় পর্যন্ত পুরো প্রধান রাস্তায় জীবাণুনাশক ব্লিচিং পাউডার ছিটানো হয়। সংগঠনটির এমন ব্যতিক্রমী ও সময়োপযোগী মানবিক উদ্যোগের ফলে সাধারণ পথচারী, যানবাহন চালক ও স্থানীয় এলাকাবাসীর মাঝে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরে এসেছে। ঈদের দিনে নিজেদের আনন্দ বিসর্জন দিয়ে এই সামাজিক দায়িত্বশীলতা প্রদর্শনের জন্য সর্বস্তরের মানুষের প্রশংসায় ভাসছেন সংগঠনের একঝাঁক তরুণ কর্মী।সংগঠনটির আহ্বায়ক ও জনপ্রিয় ছাত্রনেতা উদয় রেজা এই বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির মূল নেতৃত্ব দেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, কোরবানির যত্রতত্র বর্জ্যের কারণে যেন শহরজুড়ে ডেঙ্গু বা কোনো সংক্রামক রোগবালাই না ছড়ায় এবং ঈদের ছুটিতে মানুষ যেন স্বস্তিতে ও দুর্গন্ধে নাক না চেপে চলাচল করতে পারে, সেই সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই তারা নিজস্ব উদ্যোগে মাঠে নেমেছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরকে সম্পূর্ণ পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখতে তাদের এই স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম সামনেও অব্যাহত থাকবে।
পৌর প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন:এদিকে, পবিত্র ঈদুল আজহার মতো একটি বড় ও পূর্বনির্ধারিত ধর্মীয় উৎসবে বর্জ্য দ্রুত অপসারণ কিংবা দুর্গন্ধ দূরীকরণে স্থানীয় পৌর প্রশাসনের চরম নিষ্ক্রিয়তা, জনবল সংকট ও উদাসীনতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষুব্ধ নাগরিকরা। শহরের একাধিক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "বছরের এই নির্দিষ্ট দিনটিতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য পৌরসভার বিশেষ কন্ট্রোল রুম এবং বাড়তি পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়ে জোর প্রস্তুতি থাকা উচিত ছিল। কিন্তু সকাল থেকেই পুরো জেলা শহর ময়লা আর ওলটপালট দুর্গন্ধের স্তূপে পরিণত হয়ে আছে। পৌর কর্তৃপক্ষ যেখানে সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে, সেখানে ‘গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া’র মতো তরুণরা এগিয়ে এসে আমাদের এই নরকযন্ত্রণা থেকে বাঁচিয়েছে। পৌর প্রশাসকদের এই দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যর্থতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।"স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর এমন চরম স্থবিরতা ও গাফিলতির দিনে তরুণদের এই স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে একটি ঐতিহ্যবাহী শহরকে স্থায়ীভাবে দূষণমুক্ত ও পরিষ্কার রাখতে পৌর প্রশাসনকে অনতিবিলম্বে ঘুম থেকে জেগে দ্রুত কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।