

জুনায়েদ,ব্রাহ্মণবাড়িয়া:
যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রামরাইল ইউনিয়নের উলচাপাড়া গ্রামের ঐতিহাসিক ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ ২৮ মে ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে গ্রামের সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই ঈদের জামাত সম্পন্ন হয়।ঈদের এই প্রধান জামাতে ইমামতি ও খুতবা প্রদান করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রখ্যাত 'বড় হুজুর'-এর দৌহিত্র মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ সিরাজি। নামাজের পূর্বে খুতবার প্রাক-আলোচনায় তিনি ইসলামের সুমহান ধর্মীয় নীতি, নৈতিকতা ও মানবিক আদর্শের ওপর গুরুত্বপূর্ণ আলোকপাত করেন, যা উপস্থিত মুসল্লিদের ইসলামের সঠিক ও শান্তির পথে চলতে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে। এছাড়া পবিত্র কোরবানির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা, বিধি-বিধান ও নিয়মাবলী নিয়ে তিনি অত্যন্ত চমৎকার ও বিস্তারিত আলোচনা করেন, যা সাধারণ মানুষের মনের অনেক জটিল প্রশ্নের উত্তর দেয়াসহ বিভিন্ন ভুল-ত্রুটি সংশোধনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ সিরাজি তাঁর বয়ানে বলেন, "ইসলামের মূল শিক্ষাই হলো আত্মত্যাগ ও উচ্চ নৈতিকতা। কোরবানির সঠিক নিয়ম ও মাসআলা পুঙ্খানুপুঙ্খ মেনে চলার মাধ্যমেই আমাদের এই মহান ইবাদত আল্লাহর দরবারে কবুল ও সার্থক হতে পারে।"উক্ত ঐতিহ্যবাহী ঈদের জামাতে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন—গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ও উলচাপাড়া গ্রামের কৃতি সন্তান জনাব মিজানুর রহমান এবং রামরাইল ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান জনাব মশিউর রহমান সেলিম। এছাড়াও গ্রামের সর্বস্তরের ব্যবসায়ী, রেমিট্যান্স যোদ্ধা প্রবাসী, চাকরিজীবীসহ সাধারণ মুসল্লিবৃন্দ সকল ভেদাভেদ ভুলে এক কাতারে শামিল হয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন।নামাজ শেষে উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক শুভেচ্ছা বক্তব্যে সাবেক সচিব জনাব মিজানুর রহমান উলচাপাড়া ঈদগাহের বিভিন্ন চলমান উন্নয়নমূলক কাজের চিত্র ও ভবিষ্যৎ মহাপরিকল্পনা সবার সামনে তুলে ধরেন। এ সময় তিনি অত্যন্ত গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন গ্রামের সেইসব বিশিষ্ট প্রবীণ মুরুব্বি ও সমাজসেবকদের, যাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও হাত ধরে এই অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়ন যাত্রা শুরু হয়েছিল। বিশেষ করে মরহুম ছাহেব আলী চেয়ারম্যান, মরহুম আব্দুল জব্বার ব্যাপারি, মরহুম ফরিদ উদ্দীন মাস্টার, মরহুম শফিকুল ইসলাম মাস্টার, হুমায়ুন মেম্বার এবং ঈদগাহ কমিটির সাবেক ক্যাশিয়ার মরহুম শাহ আলমসহ গ্রামের প্রয়াত সকল বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অনন্য অবদানের কথা তিনি আবেগঘন কণ্ঠে স্মরণ করেন। সবশেষে তিনি সমগ্র গ্রামবাসীর সুখ, শান্তি, ঐক্য ও সমৃদ্ধি কামনা করে তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।নামাজ ও খুতবা শেষে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ এবং বাংলাদেশের সার্বিক কল্যাণ, গ্রামের জীবিত সকল মুরুব্বিদের দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা, দেশ-বিদেশে থাকা প্রবাসী ও চাকরিজীবীদের উত্তরোত্তর উন্নতি এবং গ্রামের প্রয়াত সকল ব্যক্তিদের আত্মার মাগফিরাত ও জান্নাত কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে হাত তুলে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত শেষে উপস্থিত মুসল্লিরা একে অপরের সাথে কোলাকুলি ও কুশল বিনিময়ের মাধ্যমে এক আনন্দঘন পরিবেশে ঈদের চিরাচরিত আমেজ ফুটিয়ে তোলেন।