

আল-আমিন হোসেন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার দৌলতপুর মতি মার্কেট, শেরনগর ও চালা এলাকায় অবস্থিত বিভিন্ন সুতা প্রসেসিং ও কাপড়ের ডাইং মিলে পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধে এক ঝটিকা মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমাণ আদালত) পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন ২০LoggedIn) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে সরাসরি নেতৃত্ব দেন বেলকুচি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান। এ সময় পরিবেশ অধিদপ্তর সিরাজগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক তুহিন আলম ও তাঁর নেতৃত্বাধীন একটি বিশেষজ্ঞ টিম উপস্থিত ছিলেন। আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষায় বেলকুচি থানা পুলিশ এবং আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, দৌলতপুর এলাকায় অবস্থিত ‘ভাই ভাই প্রসেসিং মিল’-এ আদালত পরিদর্শনের সময় তাত্ক্ষণিকভাবে কোনো মালিক বা দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে পাওয়া যায়নি। ফলে মিলের ভেতর থেকে সরাসরি নির্গত দূষিত রাসায়নিক মিশ্রিত পানির নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মিলের পার্শ্ববর্তী ড্রেনেজ এলাকা এবং নিকটস্থ সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত টিউবওয়েল থেকে পানির রাসায়নিক নমুনা সংগ্রহ করেন। সংগৃহীত এই পানির নমুনা ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে এবং পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলের ভিত্তিতে পরিবেশ অধিদপ্তর উক্ত মিলের বিরুদ্ধে পরবর্তীতে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
এদিকে চালা এলাকায় অবস্থিত ‘মেসার্স শিল্পী প্রসেসিং মিল’ এবং ‘সততা প্রসেসিং মিল’-এর প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে কারখানার বর্জ্য ও বিষাক্ত কেমিক্যাল মিশ্রিত পানি উন্মুক্ত স্থানে ফেলে পরিবেশ দূষণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এর প্রেক্ষিতে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর আওতায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে প্রত্যেক মিলকে ২ হাজার টাকা করে মোট ৪ হাজার টাকা নগদ অর্থদণ্ড (জরিমানা) প্রদান করেন এবং তা তাত্ক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।
অভিযান চলাকালীন সময়ে শেরনগর ও চালা এলাকার বিভিন্ন মিল মালিক ও উপস্থিত প্রতিনিধিদের পরিবেশ দূষণ মারাত্মক পর্যায়ে না নিয়ে যাওয়ার জন্য এবং সরকারি বিধি-বিধান কঠোরভাবে মেনে কারখানা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়। একই সাথে পরিবেশ সংরক্ষণে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা (ইটিপি) ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মিল কর্তৃপক্ষকে কঠোরভাবে আহ্বান জানানো হয়।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, টেকসই পরিবেশ রক্ষা এবং নদী-নালা ও ভূগর্ভস্থ পানি দূষণমুক্ত রাখতে পরিবেশ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় বেলকুচি উপজেলায় এমন দূষণবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।