

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক:
দেশের আর্থিক খাতে ডিজিটাল বিপ্লব ঘটাতে এবার বাণিজ্যিকভাবে ই-ঋণ বা ডিজিটাল লোন সুবিধা চালু করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও গ্রাহকরা ব্যাংকে সশরীরে উপস্থিত না হয়েই সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বাণিজ্যিক ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন। সোমবার এ সংক্রান্ত একটি নীতিমালা জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে। নতুন এই ব্যবস্থায় ঋণের আবেদন থেকে শুরু করে অনুমোদন এবং অর্থ বুঝে পাওয়া—পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে মোবাইল অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। প্রাথমিকভাবে ছয় মাসের জন্য পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই সেবা চালু করা হবে এবং এই পর্যায়ে সফল হলে পরবর্তীতে তা দেশের সকল ব্যাংকে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। এই ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ এক বছর এবং ঋণ পাওয়ার জন্য আবেদনকারীকে অবশ্যই খেলাপি মুক্ত হতে হবে।বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে যে এই ই-ঋণ বিতরণের পুরো প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করতে হবে।
গ্রাহক বাছাই এবং আবেদন মঞ্জুরের ক্ষেত্রে কোনো কাগজের ব্যবহার থাকবে না। এমনকি আবেদনকারীর পরিচয় নিশ্চিত করতে হাতের ছাপ বা বায়োমেট্রিক পদ্ধতি, ওটিপি এবং একাধিক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যবহার করা হবে। ঋণগ্রহীতার যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিআইবি তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবহার করা হবে এবং এর জন্য ব্যাংকগুলো গ্রাহকের কাছ থেকে কোনো বাড়তি ফি নিতে পারবে না। ঋণের সুদহার নির্ধারিত হবে বর্তমান বাজারদরের ওপর ভিত্তি করে, তবে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা থাকলে সুদের হার ৯ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। দেশের নগদবিহীন অর্থনীতি বা ক্যাশলেস সোসাইটি গড়ার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।সাইবার নিরাপত্তা ও গ্রাহকের তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়েও কেন্দ্রীয় ব্যাংক কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেছে। নীতিমালায় বলা হয়েছে যে গ্রাহকের ব্যক্তিগত ও ঋণ সংক্রান্ত সকল তথ্য কেবল বাংলাদেশের অভ্যন্তরেই সংরক্ষণ করতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই তৃতীয় কোনো পক্ষের কাছে তা প্রকাশ করা যাবে না। ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের কাছে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। নতুন এই ব্যবস্থার ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা খুব সহজেই অল্প সময়ের মধ্যে জরুরি পুঁজি সংগ্রহ করতে পারবেন যা দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার করবে।