

ছাইম খান, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের উত্তর বাঁশবাড়িয়া গ্রামে নতুন বাড়ি নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই বর্বরোচিত হামলায় আলিম তালুকদার নামের এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পর টুঙ্গিপাড়া থানায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগকারী লাবনী আক্তারের দাবি, তিনি সম্প্রতি তাঁর পৈত্রিক জমিতে নিজ গ্রামে একটি নতুন বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করেন। কিন্তু বাড়ির কাজ শুরু করার পর থেকেই স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী প্রতিবেশী তাঁর কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা বা অর্থ দাবি করে আসছিলেন এবং কাজ বন্ধ রাখার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছিলেন।
দায়েরকৃত অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৭ জুন বিকেলে লাবনী আক্তার তাঁর ভাইয়ের বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে ওত পেতে থাকা কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাঁর পথরোধ করে এবং পুনরায় দাবিকৃত অর্থ দাবি করে। তিনি এই অন্যায় দাবিতে রাজি না হওয়ায় দুর্বৃত্তরা তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং একপর্যায়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করতে শুরু করে।
এ সময় লাবনী আক্তারের আর্তচিৎকার শুনে তাঁর আপন ভাই আলিম তালুকদার দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে তিনি উল্টো সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত হামলার শিকার হন। হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত করে, যার ফলে তিনি রক্তাক্ত জখম হন। পরে পরিবারের অন্য সদস্যরা তাঁদের বাঁচাতে এগিয়ে এলে ওবায়দুল তালুকদার, বাবলু তালুকদার ও সজিব তালুকদারসহ অন্যান্যদেরও বেধড়ক মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
আহত আলিম তালুকদার চিকিৎসাধীন অবস্থায় জানান, বোনের ওপর অতর্কিত হামলার খবর পেয়ে তিনি কেবল বিষয়টি মীমাংসা করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু ঘটনাস্থলে পৌঁছামাত্রই কোনো কিছু না বুঝেই তাঁর ওপর প্রাণঘাতী আক্রমণ করা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
অন্যদিকে অভিযুক্তদের পক্ষে দেলোয়ার হোসেন তালুকদার চাঁদাবাজির সব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেন, “ঘটনাটি কোনো প্রকার চাঁদা বা অর্থ দাবির বিষয় নয়। মূলত আমাদের দীর্ঘদিনের পারিবারিক জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে এই আকস্মিক সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়েছে।”
খবর পেয়ে স্থানীয় বাঁশবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ক্যাম্পের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) খালেক সংবাদমাধ্যমকে জানান, “দুই পক্ষের মধ্যে জমি ও বাড়ি নির্মাণ নিয়ে মারামারির ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে আমরা সত্যতা পেয়েছি। ঘটনার পরপরই আহতদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।”
টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আইয়ুব আলী বলেন, “উত্তর বাঁশবাড়িয়া গ্রামের মারামারির ঘটনায় ভুক্তভোগী লাবনী আক্তারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” বর্তমানে এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে পুলিশি নজরদারি জোরদার রয়েছে।