

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে ‘উচ্চাভিলাষী, বাস্তবতা-বিবর্জিত ও ঋণগ্রস্ত’ বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন ২০২৬) অর্থমন্ত্রী কর্তৃক বাজেট পেশের পর জাতীয় সংসদ ভবন থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এই বাজেটকে পুষ্টিগুণহীন চানাচুরের সঙ্গে তুলনা করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “এই বাজেট অনেকটা চানাচুরের মতো, যা চিবিয়ে খেতে সাময়িক ভালো লাগবে এবং দেখতেও বেশ সুন্দর মনে হবে, কিন্তু এর ভেতরে সাধারণ মানুষের জন্য প্রকৃত কোনো পুষ্টিগুণ বা কল্যাণ নেই।”
তিনি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে বলেন, অর্থমন্ত্রী তাঁর বাজেট বক্তব্যে মুখে অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়নের বড় বড় কথা বললেও সংকটে থাকা ব্যাংকিং ও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক খাত সংস্কার নিয়ে কোনো কার্যকর বা বাস্তবমুখী পদক্ষেপের উল্লেখ করেননি। দেশের বড় বড় ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া, অর্থ লুটেরা গোষ্ঠীকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা, বিদেশে পাচার করা বিপুল অর্থ দেশে ফেরত আনা কিংবা অভ্যন্তরীণ আয় বৃদ্ধির কোনো সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য দিকনির্দেশনা অর্থমন্ত্রীর দীর্ঘ বক্তব্যে পাওয়া যায়নি।
বাজেট নিয়ে গভীর হতাশা প্রকাশ করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, এই গৎবাঁধা বাজেট দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিতে কোনো মৌলিক বা ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারবে না; বরং এর বিশাল ঘাটতি মেটানোর ফলে দেশি-বিদেশি ঋণনির্ভরতা ও লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতি আরও কয়েকগুণ বাড়বে। তিনি স্পষ্টভাবে হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, কাঠামোগত রাজনৈতিক সংস্কার ছাড়া টেকসই অর্থনৈতিক সংস্কার কোনোভাবেই সম্ভব নয় এবং বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি ও অর্জন সম্পূর্ণ ‘শূন্য’।
দেশের ব্যাংকিং খাতে নজিরবিহীন দলীয়করণ ও চরম রাজনীতিকরণের তীব্র সমালোচনা করে তিনি এ সময় বিতর্কিত ইসলামী ব্যাংকের উদাহরণ টেনে আনেন। নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, “জনগণের আমানত লুটকারী চক্র ও ইসলামী ব্যাংককে আবারও এস আলমের হাতে আড়ালে আবডালে তুলে দেওয়ার একটি অপপ্রক্রিয়া ভেতরে ভেতরে চলছে।” তাঁর মতে, এ ধরনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের ফলে সাধারণ আমানতকারীদের মধ্যে চরম অনাস্থা ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, যা পুরো ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে। একই সাথে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিতর্কিত ও দলীয় নিয়োগ নিয়েও তিনি সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন।
বাজেট বাস্তবায়নে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে স্বাধীন বিচার বিভাগ ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, “দুদক ও বিচার বিভাগকে ঢেলে সাজানো না হলে এই বিশাল বাজেটের বরাদ্দের আড়ালে ক্ষমতাসীন ও আমলাদের ব্যাপক দুর্নীতির নতুন সুযোগ তৈরি হবে।”
পরিশেষে এনসিপি-এর এই শীর্ষ নেতা মন্তব্য করেন, দেশে সর্বাগ্রে রাজনৈতিক স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত না করলে এ ধরনের চটকদার বাজেট সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের কোনো উপকারে আসবে না, বরং এটি ধনীকে আরও ধনী করার হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।