

দেলোয়ার হোসাইন মাহদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (নবীনগর) আসনের নির্বাচনী মাঠে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে স্বতন্ত্র থেকে দলীয় প্রার্থী হওয়া নজরুল ইসলাম নজু। গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী হিসেবে ‘ট্রাক’ প্রতীকে পরিচিতি পাওয়ার পর শেষ মুহূর্তে ইসলামী আন্দোলনের ‘হাতপাখা’ প্রতীকে মনোনয়ন সংগ্রহ করায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনা।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই নজুর এই বারবার অবস্থান পরিবর্তনকে ‘রাজনৈতিক ডিগবাজি’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন। নেটিজেনদের অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি নৌকার পক্ষে সক্রিয় ছিলেন, এরপর ভিপি নুরের হাত ধরে ট্রাকে এবং সর্বশেষ হাতপাখা প্রতীকে হাজির হয়েছেন।
বিতর্কের জবাবে নজরুল ইসলাম নজু বলেন, “সিদ্ধান্তটি আমি কারও অজান্তে নেইনি। গণঅধিকার পরিষদ বিএনপির সঙ্গে জোট করায় কৌশলী কারণে আমি ২৫ ডিসেম্বর ইসলামী আন্দোলনে যোগ দেই এবং হাতপাখা প্রতীকে মনোনয়ন সংগ্রহ করি। এই বিষয়ে ভিপি নুরের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে এবং তাঁর অনুমতি নিয়েই আমি এই পদক্ষেপ নিয়েছি।” আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি জানান, প্রবাসে থাকাকালীন এলাকার মানুষের অনুরোধে ভোট চেয়েছিলেন মাত্র, কিন্তু কখনো কোনো পদ-পদবিতে ছিলেন না।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নবীনগর শাখার সভাপতিও নজুর মনোনয়নের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আগে থেকেই যোগাযোগের সূত্র ধরে ২৫ ডিসেম্বর তাঁকে দলীয় প্রতীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৬ ডিসেম্বর নবীনগর পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক বিশাল জনসমাবেশে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ভিপি নুর হেলিকপ্টারে এসে নজুর হাত তুলে তাঁকে ‘ট্রাক’ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতীকের এই নাটকীয় পরিবর্তন নবীনগরের নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।