

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা:
ব্যাপক আলোচিত ও বহুল প্রতিক্ষীত ব্যভিচারের মামলায় শেষ পর্যন্ত বেকসুর খালাস পেয়েছেন ক্রিকেটার নাসির হোসাইন ও তাঁর স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মি। বিজ্ঞ আদালত তাঁদের খালাস প্রদান করে রায়ের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন যে, ক্রিকেটার নাসির ও তামিমার বিয়েতে আইনগত কোনো প্রকার বাধা ছিল না।
আজ বুধবার (১০ জুন ২০২৬) বেলা ১২টায় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এই হাইপ্রোফাইল মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আশুতোষ ভৌমিক রায়ের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
রায় ঘোষণার সময় বিজ্ঞ বিচারক তাঁর পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, “আসামি তামিমার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায় চার্জ (অভিযোগ) গঠন করা হয়েছিল। এই ৪৯৪ ধারা আইনগতভাবে প্রমাণ করতে হলে সবার আগে এটা প্রমাণ করতে হবে যে, নাসিরের সাথে তামিমার দ্বিতীয় বিয়েটি সম্পূর্ণ অবৈধ ছিল। কিন্তু আদালত নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখেছে যে, তামিমা তাঁর আগের স্বামী রাকিবকে যে তালাক দিয়েছেন, তার বৈধ তালাকনামা রয়েছে এবং তা যথাযথভাবে রেজিস্ট্রিও করা হয়েছে। এমনকি তালাক রেজিস্ট্রেশন বইয়ে তামিমার নিজস্ব স্বাক্ষরও রয়েছে।”
এদিকে মামলার বাদী ও তামিমার সাবেক স্বামী রাকিব হাসান আদালতে দাবি করেছিলেন যে, তাঁকে তালাকের কোনো আইনি নোটিশ দেওয়া হয়নি। তবে বাদীর এই দাবি নাকচ করে দিয়ে আদালত রায়ে বলেন, “আসামিপক্ষ ডাক বিভাগের মাধ্যমে চিঠি পোস্ট করার অকাট্য রশিদ (রিসিট) আদালতে দাখিল করেছে। শুধু তাই নয়, ডাকবিভাগের সংশ্লিষ্ট চিঠি বিলিকারক (পিয়ন) স্বয়ং আদালতে এসে এই মর্মে সাক্ষ্য দিয়েছেন যে—তিনি তালাকের নোটিশ নিয়ে বাদীর ঠিকানায় গিয়েছিলেন, কিন্তু বাদী রাকিব নিজে সেই নোটিশ গ্রহণ করেননি।”
আদালতের নথিসূত্র ও সাক্ষ্য থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালে তামিমা বাদী রাকিবকে তালাক দেওয়ার পর থেকে ২০২১ সালে ক্রিকেটার নাসিরকে বিয়ে করার মধ্যবর্তী দীর্ঘ ৫ বছরে বাদীর সঙ্গে তামিমার মাত্র কয়েকবার দেখা হয়েছিল। আইনগতভাবে এটা থেকে সহজেই অনুমেয় যে, এই দীর্ঘ সময়ে তাঁরা স্বামী-স্ত্রীর মতো একই বাড়িতে একসাথে বসবাস করে দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করেছেন—এমন কোনো প্রমাণ বাদী পক্ষ উপস্থাপন করতে পারেনি।
এ ছাড়া নাসির-তামিমার পক্ষে একটি বড় মোড় ঘুরিয়ে দেয় তাদের শিশু সন্তান। সে আদালতে এসে সাক্ষ্য দিয়ে সরাসরি বলেছে যে, তার মা (তামিমা) তাকে সঙ্গে করে রাজধানীর হোটেল লা মেরিডিয়ানে গিয়ে তার বাবা রাকিবের সঙ্গে স্রেফ দেখা করেছিল।
আদালত সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে চূড়ান্ত রায়ে আরও উল্লেখ করেন, “যেহেতু বাদী রাকিব নিজেই একসময় আসামি তামিমাকে ‘তালাকে তাফউইজ’ (স্ত্রীকে তালাক প্রদানের বিশেষ ক্ষমতা) প্রদান করেছিলেন, সেই আইনি ক্ষমতা বলেই তামিমা ২০১৬ সালে তাঁকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে তালাক দিয়েছেন এবং তা রেজিস্ট্রিও হয়েছে। ফলে তালাক দেওয়ার দীর্ঘদিন পর অর্থাৎ ২০২১ সালে এসে নাসির ও তামিমার দ্বিতীয় বিয়ে সম্পন্ন করতে আইনগত কোনো বাধা বা ত্রুটি অবশিষ্ট ছিল না। একই সাথে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত দণ্ডবিধির অন্যান্য ধারাও বাদী পক্ষ সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। সেহেতু সার্বিক তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে আসামি তামিমা সুলতানা তাম্মি ও ক্রিকেটার নাসির হোসেনকে এই মামলা থেকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হলো।”