

মারুফ খন্দকার,দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের শরীফপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই চরম অবহেলিত ও জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। এলাকাজুড়ে মাইলের পর মাইল ভাঙাচোরা ও কাঁচা রাস্তার কারণে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় হাজার হাজার মানুষকে। বিশেষ করে কোমলমতি শিক্ষার্থী, মুমূর্ষু রোগী ও সাধারণ পথচারীদের যাতায়াতে প্রতিনিয়ত পোহাতে হচ্ছে অবর্ণনীয় ভোগান্তি। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শরীফপুর এলাকার অধিকাংশ রাস্তা এখনো কাঁচা থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো সড়ক কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায় এবং বর্ষা মৌসুমে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় অচল হয়ে পড়ে। এর ফলে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীরা সময়মতো তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে পারছে না এবং সিএনজি, অটোরিকশা ও অন্যান্য জরুরি যানবাহন রাস্তার এমন বেহাল দশার কারণে এই এলাকায় প্রবেশ করতে চায় না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এলাকার একজন ভুক্তভোগী কলেজ শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, রাস্তার খারাপ অবস্থার কারণে কোনো অটোগাড়ি আমাদের এলাকায় আসতে চায় না। বাধ্য হয়ে প্রতিদিন অনেক দূর কাদা-মাটি মাড়িয়ে হেঁটে আমাদের কলেজে যেতে হয়। এতে মাঝেমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ক্লাস মিস হয় এবং পরীক্ষার সময় সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছানো নিয়ে চরম ঝুঁকিতে পড়তে হয়। একই এলাকার পথচারী সুরুজ জামান বলেন, ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে ডেলিভারি রোগী তথা গর্ভবতী মা ও বয়োবৃদ্ধদের হাসপাতালে নিয়ে চলাচলে সবচেয়ে বেশি সমস্যা পোহাতে হয়। শরীফপুর এলাকার শেষ প্রান্ত থেকে রায়নগর যাওয়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাঁচা রাস্তাটি আজ পর্যন্ত পাকা করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বৃষ্টির দিনে এই রাস্তায় সাধারণ মানুষের পক্ষে হেঁটে চলাচল করাও দুষ্কর হয়ে পড়ে।স্থানীয় বাসিন্দা ও ছাত্রদল নেতা রকি আহমেদ এলাকার এই তীব্র বৈষম্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শরীফপুর এলাকার মেইন রাস্তাটি আজ পর্যন্ত কাঁচা রয়ে গেছে। আমরা কবে এসব জরাজীর্ণ সড়ক ও উন্নয়ন বৈষম্য থেকে মুক্তি পাবো? দীর্ঘদিন ধরে এই মহল্লার মানুষ কাঁচা রাস্তা দিয়ে কষ্ট করে চলাচল করছে এবং বর্তমানে রাস্তাটি চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তাই কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের জোর দাবি, অতি দ্রুত এই জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি পাকাকরণ ও সংস্কারের ব্যবস্থা করা হোক। অবহেলিত এই এলাকাবাসীর তীব্র দাবি, দ্রুত শরীফপুর এলাকার প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন সংযুক্ত কাঁচা রাস্তা সংস্কার ও পাকাকরণের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক, অন্যথায় সামনের বর্ষা মৌসুমে জনদুর্ভোগ আরও কয়েক গুণ বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।