

মোঃ মনির,ঠাকুরগাঁও সদর প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁও জেলার সদর উপজেলার ২ নং আখানগর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের চতুরাখোর গ্রামে ভোর আনুমানিক ৫টা ৩০ মিনিটে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন লাগার খবর পেয়েই পাশের বাড়িতে অবস্থানরত ১০ দিনব্যাপী মৌলিক ভিডিপি প্রশিক্ষণার্থী মোঃ সাব্বির হোসেন বীরত্বের সাথে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং অগ্নি নিয়ন্ত্রণ ও জীবন-সম্পদ উদ্ধারকার্যে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ভোরে হঠাৎ সূত্রপাত হওয়া আগুন মুহূর্তের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে এলাকার মৃত খোকা মিয়ার মালিকানাধীন বাড়িসহ মোট দুইটি পরিবারের চারটি বসতঘর সম্পূর্ণরূপে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
আকস্মিক এই অগ্নিকাণ্ডে ঘরগুলোতে থাকা প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নগদ অর্থ, মূল্যবান আসবাবপত্র, কাপড়-চোপড় এবং অন্যান্য সমস্ত গৃহস্থালী সামগ্রী ভস্মীভূত হয়। এছাড়া গোয়ালঘরে আগুন লাগায় দুটি গরু ঘটনাস্থলেই পুড়ে মারা যায় এবং আরও একটি গরু ও ছয়টি ছাগল মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছে।ভয়াবহ এই দুর্যোগের খবর পাওয়ার সাথে সাথে সাব্বির হোসেন কোনো প্রকার বিলম্ব না করে সরাসরি উদ্ধার কার্যক্রমে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পূর্বেই তিনি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্থানীয় আতঙ্কিত লোকজনকে সুসংগঠিত করেন। তাঁর দিকনির্দেশনায় গ্রামবাসীরা পানি ও বালু নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু করে, যা আগুনের তীব্র বিস্তার রোধে সর্বাত্মক ভূমিকা রাখে। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সাব্বির তাদের সঙ্গে নিখুঁত সমন্বয় করে সম্পূর্ণ অগ্নি নির্বাপন ও গবাদিপশু উদ্ধার কার্যক্রমে শেষ পর্যন্ত সহযোগিতা অব্যাহত রাখেন।তার এমন তাৎক্ষণিক মানবিক সাড়া, সাহসী পদক্ষেপ ও রণকৌশলের ফলে আগুনের ব্যাপ্তি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। যার ফলে পার্শ্ববর্তী বেশ কয়েকটি বসতঘর, বিভিন্ন মূল্যবান স্থাপনা, অন্যান্য গবাদিপশু এবং লাখ লাখ টাকার সম্পদ নিশ্চিত ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পায়।এলাকাবাসীর মতে, চলমান প্রশিক্ষণকালীন অর্জিত জ্ঞান, গভীর দায়িত্ববোধ এবং চরম মানবিকতার বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে মোঃ সাব্বির হোসেন একজন আদর্শ ও দেশপ্রেমিক ভিডিপি প্রশিক্ষণার্থীর বাস্তব পরিচয় দিয়েছেন।উল্লেখ্য, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার লক্ষ্যে তিনি কোনো ধরনের ব্যক্তিগত আনুষ্ঠানিকতার বিলম্ব না করে সরাসরি উদ্ধারকার্যে অংশ নেন। এই কারণে তাৎক্ষণিকভাবে বাহিনীর নির্ধারিত পোশাক বা অফিসিয়াল ভেস্ট পরিধানের সুযোগ তাঁর হয়নি। পরবর্তীতে দায়িত্বশীলদের অনুরোধে ভেস্ট পরিহিত অবস্থায় তাঁর একটি ছবি ধারণ করা হয়।