

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি (জিএম কাদের অংশ) এবং জাতীয় পার্টির (আনিসুল ইসলাম মাহমুদ অংশ) প্রার্থীদের অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ভোলার বাসিন্দা আবদুল্লাহ আল মাহমুদ গত রোববার (৪ জানুয়ারি) এই রিট আবেদনটি দাখিল করেন।
রিটকারীর পক্ষে আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির জানান, এই রিটে আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে। রিট আবেদনে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরিক হিসেবে জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলীয় জোটের দলগুলো মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো অপরাধে সম্পৃক্ত ছিল।
ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির সংবিধানের ৬৬(২)(ঙ) অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে বলেন, জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী মহাজোটের দলগুলো অপরাধের সঙ্গে জড়িত, তাই তারা নির্বাচনের অযোগ্য হওয়ার দাবি রাখে। এছাড়া গত বছরের ১২ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। রিটে দাবি করা হয়েছে, জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের ‘ভ্রাতৃপ্রতিম’ দল হিসেবে তাদের সব নীতি ও আদর্শকে সমর্থন দিয়ে এসেছে, তাই তাদের প্রার্থীদের বৈধতা দেওয়া আইনত চ্যালেঞ্জযোগ্য।
উল্লেখ্য, আসন্ন নির্বাচনে জাতীয় পার্টির জি এম কাদের অংশ ইতিমধ্যে ২৪৩ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে, জাতীয় পার্টি (আনিসুল ইসলাম মাহমুদ) ও জেপির নেতৃত্বে গঠিত নতুন জোট ‘জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ)’ ১১৯টি আসনে ১৩১ জন প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করেছে।
এখন হাইকোর্টে এই রিটের শুনানি শেষে আদালত কী সিদ্ধান্ত দেন, তার ওপরই নির্ভর করছে জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের নির্বাচনী ভাগ্যে।