

ছাইম খান, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:
গোপালগঞ্জে প্রথমবারের মতো সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় বহুল প্রতীক্ষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। গত বুধবার (১৭ জুন ২০২৬) বেলা ১১টায় গোপালগঞ্জ পৌরসভা হলরুমে জেলা প্রশাসনের বিশেষ উদ্যোগে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই মহতী কার্যক্রমের সূচনা করা হয়।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সশরীরে উপস্থিত থেকে এই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন গোপালগঞ্জ-২ আসনের জনপ্রিয় সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বর্তমান সরকারের সামাজিক সুরক্ষা বলয় জোরদার করার দেশব্যাপী চলমান কর্মসূচির অংশ হিসেবেই গোপালগঞ্জে এই কার্ড বিতরণ শুরু হলো। প্রথম পর্যায়ে পৌরসভা ও সদর এলাকা দিয়ে শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে জেলার পাঁচ উপজেলার প্রতিটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে।
উক্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফ-উজ-জামান। অনুষ্ঠানে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক সুবিধাভোগী সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে সদর উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের তালিকাভুক্ত ১২৬ জন প্রকৃত সুবিধাভোগী প্রান্তিক মানুষের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমেই গোপালগঞ্জ জেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই মানবিক কর্মসূচির সফল যাত্রা শুরু হলো।
গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে শতভাগ স্বচ্ছতা, সততা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে জেলা পর্যায়ে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন নিবিড় যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির সুনির্দিষ্ট ও মাঠপর্যায়ের সুপারিশের ভিত্তিতে কোনো প্রকার রাজনৈতিক বা স্বজনপ্রীতির ঊর্ধ্বে থেকে প্রকৃত ও যোগ্য উপকারভোগীদের নির্বাচন করে এই ডিজিটাল কার্ড প্রদান করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসন আরও নিশ্চিত করেছে যে, এই ফ্যামিলি কার্ডধারীরা সরকার নির্ধারিত অত্যন্ত স্বল্পমূল্যে টিসিবির (টিসিবি) নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী সংগ্রহের পাশাপাশি নির্ধারিত সরকারি বিশেষ খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা কর্মসূচির সরাসরি সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। এ ছাড়া কার্ড বিতরণ সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য, সংশোধন বা উপকারভোগীর খসড়া তালিকা সম্পর্কে বিশদ জানতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় অথবা জেলা প্রশাসনের তথ্য বাতায়নে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে উপস্থিত সকল অতিথি ও সুবিধাভোগীরা দাঁড়িয়ে একযোগে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন। পরে আমন্ত্রিত অতিথিরা বর্তমান সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি ও সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের সুদূরপ্রসারী গুরুত্ব তুলে ধরে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।