

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক কমিটি প্রকাশকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অসন্তোষ ও নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে বহুল প্রতীক্ষিত এই কমিটি ঘোষণার পরপরই কাঙ্ক্ষিত পদ না পাওয়া এবং বঞ্চিত নেতাকর্মীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে সংবাদ সম্মেলন ডেকে দলটির চার শীর্ষ স্থানীয় নেতা পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এর রেশ ধরে গতকাল শুক্রবার সকালে গণমাধ্যমে প্রেরিত এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে ওই চারজনসহ সর্বমোট ২২ জন নেতাকর্মী একযোগে পদত্যাগ করার কথা জানান। সদ্য ঘোষিত এই কমিটিকে ‘পকেট কমিটি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বিক্ষুব্ধরা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মীর মোহাম্মদ শোয়াইবকে আহ্বায়ক এবং আরিফ মঈনুদ্দিনকে সদস্য সচিব মনোনীত করে ১৬৮ সদস্যবিশিষ্ট এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক কমিটি চূড়ান্ত করা হয়। এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ এই কমিটির অনুমোদন প্রদান করেন। গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় দলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়। এর ঠিক দেড় ঘণ্টা পর, রাত সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে দলটির চার নেতা পদত্যাগ করেন। পদত্যাগকারী এই চারজন হলেন—নবগঠিত কমিটির জ্যেষ্ঠ সহসাংগঠনিক সম্পাদক রকিবুল হাসান, সহসাংগঠনিক সম্পাদক হুজ্জাতুল ইসলাম সাঈদ, মাহতাব উদ্দীন আহমদ এবং দপ্তর সম্পাদক রাফসান জানী রিয়াজ।
সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করে রাফসান জানী রিয়াজ বলেন, নতুন কমিটিতে দলের বহু ত্যাগী ও মাঠে সক্রিয় নেতাকর্মীকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। অপরদিকে এমন কিছু ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে, যাদের দলের মাঠপর্যায়ের অনেকেই চেনেন না। এই বৈষম্যের কারণে তারা ৩০ থেকে ৩৫ জন একযোগে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ সময় তিনি দলের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম সুজাউদ্দিন চট্টগ্রামে মহানগর কমিটি পরিচালনা করলেও তিনি কর্মীদের অবদানকে মূল্যায়ন না করে নিজের কৃতিত্ব জাহির করছেন। এছাড়া কমিটির সদস্য সচিব আরিফ মঈনুদ্দিন দলীয় আদর্শ উপেক্ষা করে এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের না জানিয়ে নিজের সুবিধামতো বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের সাথে লিয়াজোঁ করছেন বলেও অভিযোগ তোলেন। একই সাথে নবনির্বাচিত আহ্বায়ক মোহাম্মদ শোয়াইবের নেতৃত্ব দেওয়ার দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, এনসিপিকে ঘিরে দলের নেতা-কর্মীদের মাঝে অনেক বড় প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। কমিটি গঠনের সময় নিশ্চয়ই সব দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিবেচনা করা হয়েছে। এরপরও হয়তো যোগ্য কেউ বাদ পড়ে থাকতে পারেন বা কেউ আশানুরূপ পদ পাননি। ফলে তাদের মনে ক্ষোভ তৈরি হওয়াটা স্বাভাবিক। পুরো বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে। তবে বিক্ষুব্ধদের তোলা সমস্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন সদস্য সচিব আরিফ মঈনুদ্দিন। তাঁর মতে, এনসিপির নিজস্ব আদর্শ ও নিয়মনীতি মেনেই দল পরিচালিত হচ্ছে। কোনো ভুল বোঝাবুঝির কারণে এমনটা হতে পারে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, যারা পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন তারা খুব দ্রুতই ভুল বুঝতে পেরে দলে ফিরে আসবেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৯ আগস্ট চট্টগ্রাম মহানগর সমন্বয়ক কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে বন্দরনগরীতে আনুষ্ঠানিকভাবে সাংগঠনিক যাত্রা শুরু করেছিল এনসিপি। সে সময় দলটির প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল মীর আরশাদুল হককে। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে তিনি এনসিপি থেকে ইস্তফা দেন এবং চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদান করেন।