

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান, যেখানে মানবজীবনের প্রতিটি বিষয়ের মতো স্বামী-স্ত্রীর একান্ত ব্যক্তিগত সম্পর্কের ব্যাপারেও সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে প্রায়ই একটি কথা শোনা যায়— “স্ত্রী তিনটি জায়গায় উলঙ্গ হলেও গুনাহ নেই।” এই বিষয়টি ইসলামের মূলনীতির আলোকে বোঝা প্রয়োজন।
ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর পর্দার বিধান: ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, স্বামী এবং স্ত্রীর মধ্যে কোনো পর্দা নেই। তারা একে অপরের শরীর পূর্ণাঙ্গভাবে দেখতে পারেন এবং পরস্পরের সামনে যেকোনো অবস্থায় থাকতে পারেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন:
“তারা (স্ত্রীরা) তোমাদের জন্য পোশাকস্বরূপ এবং তোমরা (স্বামীরা) তাদের জন্য পোশাকস্বরূপ।” — সূরা আল-বাকারা: ১৮৭
এই আয়াতের মর্মার্থ হলো, স্বামী-স্ত্রী একে অপরের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ও নিকটতম আশ্রয়। তাই একান্ত নিভৃতে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে কোনো সতর বা পর্দার বাধ্যবাধকতা নেই।
স্ত্রী যে ক্ষেত্রগুলোতে স্বামীর সামনে উন্মুক্ত থাকতে পারেন:
১. ব্যক্তিগত শয়নকক্ষ: দম্পতি যখন নিজেদের ঘরে বা শয়নকক্ষে একান্তে থাকেন, তখন তারা যেকোনো পোশাকে বা পোশাকহীন অবস্থায় থাকতে পারেন। এটি সম্পূর্ণ বৈধ এবং এতে কোনো গুনাহ নেই।
২. একান্তে গোসলের সময়: স্বামী ও স্ত্রী যদি একত্রে গোসল করেন অথবা বাথরুমে থাকাকালীন পর্দা ঘেরা স্থানে একে অপরের সামনে উন্মুক্ত হন, তবে তাও ইসলামে জায়েজ।
৩. সহবাসের সময়: দাম্পত্য মিলনের সময় স্বামী-স্ত্রী উভয়েই সম্পূর্ণ পোশাকহীন হতে পারেন। তবে অনেক হাদিস বিশারদ ও ফকিহগণ আদব হিসেবে মিলনের সময় একটি চাদর বা আবরণ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন, যদিও তা বাধ্যতামূলক নয়।
মনে রাখা জরুরি:
উপসংহার: ইসলাম একটি সহজ ও ভারসাম্যপূর্ণ ধর্ম। দাম্পত্য জীবনে স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসা ও ঘনিষ্ঠতাকে ইসলাম পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে, তবে তা অবশ্যই চার দেয়ালের ভেতরে এবং গোপনীয়তার সাথে হতে হবে।