

মোঃ মনির, ঠাকুরগাঁও সদর প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় সরকারি কর্মকর্তা, অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধি, প্রকল্পের অংশগ্রহণকারী ও আদিবাসী সেবাগ্রহীতাদের বিশেষ অংশগ্রহণে এক গুরুত্বপূর্ণ অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার টেকসই উন্নয়ন, মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং তাদের বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
গতকাল বিকেলে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা হেকস-ইপার (HEKS/EPER) এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা ইএসডিও (ESDO)-এর যৌথ আয়োজনে সদর উপজেলা পরিষদ হলরুমে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাইরুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও খাইরুল ইসলাম বলেন, “বর্তমান সরকার অবহেলিত ও প্রান্তিক আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট ও বিভিন্ন কল্যাণমুখী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। ইতোমধ্যে তাদের মূল স্রোতোধারায় ফিরিয়ে আনতে বিশেষ বাজেট ও বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। চলতি বছর আদিবাসী ভূমিহীন পরিবারের জন্য পাকা ঘর, নারীদের কর্মসংস্থানে সেলাই মেশিন, যাতায়াতের জন্য সাইকেলসহ বিভিন্ন মানবিক সহায়তা এবং শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে বিশেষ উপবৃত্তির অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেছে। আমরা আশা করছি, সরকারি এই বিশেষ সহায়তা আগামীতেও নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও আশ্বাস দিয়ে বলেন, “আদিবাসী সম্প্রদায়ের নিজস্ব সংস্কৃতি, প্রাচীন ঐতিহ্য ও কৃষ্টিকে হারিয়ে যাওয়ার হাত থেকে সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তা সঠিকভাবে তুলে ধরতে ঠাকুরগাঁও জেলায় একটি আধুনিক ‘কালচারাল ট্রেনিং সেন্টার’ (সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র) প্রতিষ্ঠার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় বাজেট ও অনুমোদনের জন্য স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিশেষ সহযোগিতা কামনা করা হবে।”
উক্ত অ্যাডভোকেসি সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন—জাতীয় আদিবাসী পরিষদ ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সম্মানিত উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ইমরান হোসেন চৌধুরী, ফ্রাইভ প্রকল্পের প্রজেক্ট অফিসার ওয়ালিউর রহমান, প্রকল্প সমন্বয়কারী সিরাজুল সালেকিন এবং হেকস-ইপারের প্রতিনিধি পাপন কুমার সরকার। এছাড়াও বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে তাদের নিজস্ব মতামত ও মাঠপর্যায়ের চিত্র তুলে ধরেন।
সভায় আদিবাসী ও সুশীল সমাজের বক্তারা তাদের জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, স্থায়ী কর্মসংস্থান, আইনি ভূমি অধিকার, সাংস্কৃতিক বিকাশ এবং সামাজিক নিরাপত্তাসহ নানা দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও সমস্যার কথা তুলে ধরে তা দ্রুত সমাধানের জোর দাবি জানান। তারা স্পষ্ট বলেন, রাষ্ট্রের সামগ্রিক ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও তাদের মৌলিক অধিকার রক্ষায় এমন কার্যকর ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।
এ সময় সভায় স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিবৃন্দ এবং জেলার বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের বিপুল সংখ্যক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।