

আল-আমিন হোসেন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার মুকুন্দগাতী বাজারের পৌর সিএনজি স্ট্যান্ডে সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে এক বিশেষ ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে যাত্রীদের জিম্মি করে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অপরাধে চারজন সিএনজি চালককে মোট ৮ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান ও তা তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।
গতকাল রবিবার (১ জুন ২০২৬) বিকেলে বেলকুচি উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আফরিন জাহান।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেলকুচি থেকে জেলা শহর সিরাজগঞ্জ এবং সিরাজগঞ্জ থেকে বেলকুচি ও এনায়েতপুরগামী আঞ্চলিক রুটের সিএনজি অটোরিকশায় নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ ওঠে। এই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পৌর স্ট্যান্ডে আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় সরাসরি সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে বাড়তি ভাড়া আদায়ের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট চালকদের হাতেনাতে ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তারা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করলে চারজন চালকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
মোবাইল কোর্টে ভোক্তা অধিকার ও পরিবহন আইন লঙ্ঘনের অপরাধে ওই চারজন সিএনজি চালককে ২ হাজার টাকা করে মোট ৮ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান ও আদায় করা হয়। এ সময় স্ট্যান্ডের অন্য চালকদেরও ভবিষ্যতে নির্ধারিত সরকারি ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত কোনো অর্থ বা 'বকশিস' আদায় না করার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়।বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আফরিন জাহান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "সাধারণ যাত্রীদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষা এবং স্থানীয় গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের এ ধরনের ঝটিকা অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। কোনো পরিবহন চালক, হেলপার বা সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেট চক্র যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা কোনো ধরনের হয়রানি করলে তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
এদিকে প্রশাসনের এই তাৎক্ষণিক মোবাইল কোর্ট পরিচালনার উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী যাত্রীরা। তাঁরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কিছু অসাধু চালক নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি অর্থ আদায় করে আসছিলেন, যার কারণে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো। প্রশাসনের এমন কঠোর পদক্ষেপ গণপরিবহনে নৈরাজ্য ও যাত্রীদের আর্থিক ভোগান্তি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।